Dhaka ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢাকার বার্তা নিয়ে মোদির কাছে দীনেশ ত্রিবেদী, যে আলোচনা হল Logo জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুই আমন্ত্রণ ভারতের Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ বাতিল Logo ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট Logo জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী Logo সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী: চিফ হুইপ Logo বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিসার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ

বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯ জন দেখেছেন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই কর্মসূচি’ প্রদর্শনীর ব্যানারকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে থাকে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পার্কের মোড় ও প্রধান ফটক এলাকায় দুই সংগঠনের সমর্থকরা অবস্থান নেয় এবং থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, শাখা ছাত্রশিবির স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই প্রদর্শনী’র আয়োজন করে। ওই প্রদর্শনীতে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর ফাঁসিকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ দাবি করে একটি ব্যানার টাঙানো হয়।

রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা গিয়ে ওই ব্যানার সরিয়ে ফেলার দাবি জানান। শিবির তা সরাতে অস্বীকার করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ উঠে। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শওকত আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য কার্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক শুরু হলেও কোনো সমাধান আসেনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, জুলাই কর্মসূচিতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার নেতাদের ছবি প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদলের নেতারা এসে হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রদর্শনী পণ্ড করার চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে বহিরাগত এনে হামলা চালায়।

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ামিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি দেওয়া হয়েছিল। তা সরাতে বলায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে আমাদের নিরস্ত কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপাচার্য ড. এম শওকত আলী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত করতে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বার্তা নিয়ে মোদির কাছে দীনেশ ত্রিবেদী, যে আলোচনা হল

বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ

প্রকাশের সময় : ০১:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই কর্মসূচি’ প্রদর্শনীর ব্যানারকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে থাকে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পার্কের মোড় ও প্রধান ফটক এলাকায় দুই সংগঠনের সমর্থকরা অবস্থান নেয় এবং থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, শাখা ছাত্রশিবির স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই প্রদর্শনী’র আয়োজন করে। ওই প্রদর্শনীতে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর ফাঁসিকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ দাবি করে একটি ব্যানার টাঙানো হয়।

রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা গিয়ে ওই ব্যানার সরিয়ে ফেলার দাবি জানান। শিবির তা সরাতে অস্বীকার করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ উঠে। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শওকত আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য কার্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক শুরু হলেও কোনো সমাধান আসেনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, জুলাই কর্মসূচিতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার নেতাদের ছবি প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদলের নেতারা এসে হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রদর্শনী পণ্ড করার চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে বহিরাগত এনে হামলা চালায়।

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ামিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি দেওয়া হয়েছিল। তা সরাতে বলায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে আমাদের নিরস্ত কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপাচার্য ড. এম শওকত আলী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত করতে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।