Dhaka ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ জন দেখেছেন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপে সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট, সিলেকশন ও অফার লেটার, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা, আই-২০, সেভিস ফি, ডিএস-১৬০, ভিসা ফি এবং শেষ পর্যন্ত ভিসা ইন্টারভিউ, প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিক্ষার্থীকে সেভিস অনুমোদিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীকে গ্রহণ করলে তাকে সেভিসে নিবন্ধন করা হয় এবং এরপর প্রতিষ্ঠান আই-২০ ইস্যু করে। আই-২০ পাওয়ার পর শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে বুঝতে হলে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ধাপে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

প্রথম ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন – শুরুতেই শিক্ষার্থীকে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং অ্যাপ্লিকেশনের নিয়ম আলাদা হতে পারে।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের মেজর বা গবেষণার সুযোগ রয়েছে, টিউশন ফি কত, স্কলারশিপ বা ফাইন্যান্সিয়াল এইডের সুযোগ আছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কেমন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, এসব বিষয় যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করা উচিত।

এডুকেশনইউএসএ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুরুর অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণা শুরু করার পরামর্শ দেয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো একক অফিসিয়াল কলেজ র‍্যাংকিং নেই। শিক্ষার্থীর একাডেমিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে, সেটিই তার জন্য উপযুক্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট – বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার পর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করতে হবে। ট্রান্সক্রিপ্ট, পরীক্ষার ফলাফল, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সিভি বা গবেষণাসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব প্রোগ্রামের জন্য একই ধরনের ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় না। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হচ্ছে, তাদের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন ও অফার লেটার – অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার পর বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর একাডেমিক রেকর্ড, যোগ্যতা এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীকে সাধারণত একটি অফার লেটার বা অ্যাডমিশন লেটার দেওয়া হয়। এই পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে এবং ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হতে পারে।

চতুর্থ ধাপ: আই-২০ – অফার লেটার পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তথ্য সেভিসে নিবন্ধন করে এবং এরপর ফর্ম আই-২০ ইস্যু করে। আই-২০ শিক্ষার্থী নিজে তৈরি করেন না। সেভিস অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কর্মকর্তা শিক্ষার্থীর জন্য আই-২০ ইস্যু করেন। এতে শিক্ষার্থীর প্রোগ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেভিস আইডিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, আই-২০ পাওয়ার পর এবং সেভিসে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় আই-২০ দেখাতে হয়।

পঞ্চম ধাপ: সেভিস ফি- আই-২০ পাওয়ার পর এফ-১ শিক্ষার্থীদের সেভিস আই-৯০১ ফি পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে এফ ও এম শিক্ষার্থীদের সেভিস ফি ৩৫০ ডলার। সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ায় এই রসিদ প্রয়োজন হতে পারে।

ষষ্ঠ ধাপ: ডিএস-১৬০ – এরপর শিক্ষার্থীকে ডিএস-১৬০ পূরণ করতে হবে। ডিএস-১৬০ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন। ডিএস-১৬০ পূরণ করার সময় আই-২০ সামনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে থাকা সেভিস আইডি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রয়োজন হবে। নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্টের তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

ডিএস-১৬০ সাবমিট করার পর এর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ডিএস-১৬০-এর তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে অ্যাপ্লিকেশন সংশোধন এবং ভিসা ইন্টারভিউ পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।

সপ্তম ধাপ: ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি ও ইন্টারভিউ স্কেডিউল – ডিএস-১৬০ সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীকে প্রযোজ্য ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি ১৮৫ ডলার।

ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ের তারিখ নিতে হবে। তবে ডিএস-১৬০, ফি পরিশোধ এবং ইন্টারভিউ স্কেডিউলের সুনির্দিষ্ট ক্রম দূতাবাসভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান গ্লোবাল ভিসা ওয়েট টাইম তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এফ, এম ও জে ক্যাটাগরির পরবর্তী ইন্টারভিউ অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষার সময় বর্তমানে অর্ধ মাসের কম দেখানো হচ্ছে। তবে এই তথ্য নিয়মিত পরিবর্তিত হয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতা মৌসুম ও আবেদনকারীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের আগেভাগেই ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অষ্টম ধাপ: ভিসা ইন্টারভিউ – ইন্টারভিউয়ের দিন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে পাসপোর্ট, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, ভিসা ফি পরিশোধের প্রমাণ, আই-২০ এবং সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক ও আর্থিক ডকুমেন্টও প্রস্তুত রাখা উচিত।

কনস্যুলার অফিসার শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতি, কেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চান, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন প্রোগ্রামে পড়বেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং পড়াশোনা শেষে পরিকল্পনা কী, এসব বিষয়ে জানতে পারেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ডকুমেন্টও চাওয়া হতে পারে।

তাই ইন্টারভিউয়ের আগে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম, মেজর, পড়াশোনার খরচ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। মুখস্থ করা উত্তর দেওয়ার চেয়ে নিজের বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত ও সত্য উত্তর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন প্রেজেন্সও বর্তমানে ভিসা ভেটিংয়ের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, এফ-১ ও এম-১সহ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন প্রেজেন্স রিভিউ করা হতে পারে। ফলে ভিসা অ্যাপ্লিকেশনে দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার পাওয়া মানেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। একইভাবে আই-২০ পাওয়াও ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। ভিসা ইন্টারভিউতে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি তাই হওয়া উচিত ধারাবাহিকভাবে: প্রথমে নিজের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজা, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট, সিলেকশন হলে অফার লেটার পাওয়া, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়ে আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি পরিশোধ, ডিএস-১৬০ সম্পন্ন, ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধ, ইন্টারভিউ স্কেডিউল নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়া।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি ধাপে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা। ভিসা প্রক্রিয়ার নিয়ম, ফি এবং ইন্টারভিউয়ের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন

প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপে সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট, সিলেকশন ও অফার লেটার, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা, আই-২০, সেভিস ফি, ডিএস-১৬০, ভিসা ফি এবং শেষ পর্যন্ত ভিসা ইন্টারভিউ, প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিক্ষার্থীকে সেভিস অনুমোদিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীকে গ্রহণ করলে তাকে সেভিসে নিবন্ধন করা হয় এবং এরপর প্রতিষ্ঠান আই-২০ ইস্যু করে। আই-২০ পাওয়ার পর শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে বুঝতে হলে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ধাপে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

প্রথম ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন – শুরুতেই শিক্ষার্থীকে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং অ্যাপ্লিকেশনের নিয়ম আলাদা হতে পারে।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের মেজর বা গবেষণার সুযোগ রয়েছে, টিউশন ফি কত, স্কলারশিপ বা ফাইন্যান্সিয়াল এইডের সুযোগ আছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কেমন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, এসব বিষয় যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করা উচিত।

এডুকেশনইউএসএ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুরুর অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণা শুরু করার পরামর্শ দেয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো একক অফিসিয়াল কলেজ র‍্যাংকিং নেই। শিক্ষার্থীর একাডেমিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে, সেটিই তার জন্য উপযুক্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট – বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার পর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করতে হবে। ট্রান্সক্রিপ্ট, পরীক্ষার ফলাফল, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সিভি বা গবেষণাসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব প্রোগ্রামের জন্য একই ধরনের ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় না। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হচ্ছে, তাদের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন ও অফার লেটার – অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার পর বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর একাডেমিক রেকর্ড, যোগ্যতা এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীকে সাধারণত একটি অফার লেটার বা অ্যাডমিশন লেটার দেওয়া হয়। এই পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে এবং ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হতে পারে।

চতুর্থ ধাপ: আই-২০ – অফার লেটার পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তথ্য সেভিসে নিবন্ধন করে এবং এরপর ফর্ম আই-২০ ইস্যু করে। আই-২০ শিক্ষার্থী নিজে তৈরি করেন না। সেভিস অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কর্মকর্তা শিক্ষার্থীর জন্য আই-২০ ইস্যু করেন। এতে শিক্ষার্থীর প্রোগ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেভিস আইডিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, আই-২০ পাওয়ার পর এবং সেভিসে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় আই-২০ দেখাতে হয়।

পঞ্চম ধাপ: সেভিস ফি- আই-২০ পাওয়ার পর এফ-১ শিক্ষার্থীদের সেভিস আই-৯০১ ফি পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে এফ ও এম শিক্ষার্থীদের সেভিস ফি ৩৫০ ডলার। সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ায় এই রসিদ প্রয়োজন হতে পারে।

ষষ্ঠ ধাপ: ডিএস-১৬০ – এরপর শিক্ষার্থীকে ডিএস-১৬০ পূরণ করতে হবে। ডিএস-১৬০ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন। ডিএস-১৬০ পূরণ করার সময় আই-২০ সামনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে থাকা সেভিস আইডি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রয়োজন হবে। নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্টের তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

ডিএস-১৬০ সাবমিট করার পর এর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ডিএস-১৬০-এর তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে অ্যাপ্লিকেশন সংশোধন এবং ভিসা ইন্টারভিউ পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।

সপ্তম ধাপ: ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি ও ইন্টারভিউ স্কেডিউল – ডিএস-১৬০ সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীকে প্রযোজ্য ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি ১৮৫ ডলার।

ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ের তারিখ নিতে হবে। তবে ডিএস-১৬০, ফি পরিশোধ এবং ইন্টারভিউ স্কেডিউলের সুনির্দিষ্ট ক্রম দূতাবাসভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান গ্লোবাল ভিসা ওয়েট টাইম তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এফ, এম ও জে ক্যাটাগরির পরবর্তী ইন্টারভিউ অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষার সময় বর্তমানে অর্ধ মাসের কম দেখানো হচ্ছে। তবে এই তথ্য নিয়মিত পরিবর্তিত হয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতা মৌসুম ও আবেদনকারীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের আগেভাগেই ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অষ্টম ধাপ: ভিসা ইন্টারভিউ – ইন্টারভিউয়ের দিন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে পাসপোর্ট, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, ভিসা ফি পরিশোধের প্রমাণ, আই-২০ এবং সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক ও আর্থিক ডকুমেন্টও প্রস্তুত রাখা উচিত।

কনস্যুলার অফিসার শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতি, কেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চান, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন প্রোগ্রামে পড়বেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং পড়াশোনা শেষে পরিকল্পনা কী, এসব বিষয়ে জানতে পারেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ডকুমেন্টও চাওয়া হতে পারে।

তাই ইন্টারভিউয়ের আগে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম, মেজর, পড়াশোনার খরচ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। মুখস্থ করা উত্তর দেওয়ার চেয়ে নিজের বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত ও সত্য উত্তর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন প্রেজেন্সও বর্তমানে ভিসা ভেটিংয়ের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, এফ-১ ও এম-১সহ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন প্রেজেন্স রিভিউ করা হতে পারে। ফলে ভিসা অ্যাপ্লিকেশনে দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার পাওয়া মানেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। একইভাবে আই-২০ পাওয়াও ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। ভিসা ইন্টারভিউতে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি তাই হওয়া উচিত ধারাবাহিকভাবে: প্রথমে নিজের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজা, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট, সিলেকশন হলে অফার লেটার পাওয়া, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়ে আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি পরিশোধ, ডিএস-১৬০ সম্পন্ন, ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধ, ইন্টারভিউ স্কেডিউল নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়া।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি ধাপে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা। ভিসা প্রক্রিয়ার নিয়ম, ফি এবং ইন্টারভিউয়ের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া উচিত।