Dhaka ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি Logo ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ দিল্লির কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo বিএনপির মহাসচিব পদে কে? রিজভী-সালাহউদ্দিনে নতুন সমীকরণ Logo রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল Logo তারেক রহমানের ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ ভিশনে বিশ্বাসী মার্কিন ব্যবসায়ীরা: অতুল কেশপ Logo ব্যাটারি রিকশা-ইবাইক বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে : জ্বালানিমন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল Logo ইসিতে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা Logo সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান যোগাযোগে নতুন সমঝোতা স্মারক সই Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠক

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ জন দেখেছেন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে তাঁর মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছে। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ।

রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক থেকে। মনোনয়নপত্রে তাঁর পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

ছাত্র রাজনীতি থেকে যে পথচলা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের ছায়ায় সরাসরি দলীয় পদ দিয়ে নয়; বরং ছাত্রজীবনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি সংগঠনটির এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল তাঁকে।

তবে ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ের পর তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে স্থায়ী হননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা ছাড়াও সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফর এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে
আশির দশকের মাঝামাঝি জীবনের মোড় আবার ঘুরিয়ে দেন ফখরুল। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

এই সময় থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান শুরু। ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

সংসদ ও মন্ত্রিসভায় ফখরুল
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সবচেয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে। দলীয় সংকট, আন্দোলন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক বিরোধের নানা পর্যায়ে তিনি বিএনপির মুখপাত্র ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সামনে থেকেছেন।

রাজনীতির বাইরে পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ
মির্জা ফখরুলের পারিবারিক পরিচয়ও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক এবং ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিজীবনে ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করছেন এবং ছোট মেয়ে সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা করেন।

এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক সম্ভবত এখনই। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে । এর আগে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন—রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সেই দায়িত্বও ছাড়তে হবে।

একজন শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলীয় মহাসচিব—জীবনের নানা পরিচয় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল এখন রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী। ২০ আগস্টের ভোট তাই শুধু একটি নির্বাচনের তারিখ নয়; তাঁর কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথচলারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৩:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে তাঁর মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছে। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ।

রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক থেকে। মনোনয়নপত্রে তাঁর পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

ছাত্র রাজনীতি থেকে যে পথচলা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের ছায়ায় সরাসরি দলীয় পদ দিয়ে নয়; বরং ছাত্রজীবনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি সংগঠনটির এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল তাঁকে।

তবে ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ের পর তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে স্থায়ী হননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা ছাড়াও সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফর এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে
আশির দশকের মাঝামাঝি জীবনের মোড় আবার ঘুরিয়ে দেন ফখরুল। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

এই সময় থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান শুরু। ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

সংসদ ও মন্ত্রিসভায় ফখরুল
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সবচেয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে। দলীয় সংকট, আন্দোলন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক বিরোধের নানা পর্যায়ে তিনি বিএনপির মুখপাত্র ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সামনে থেকেছেন।

রাজনীতির বাইরে পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ
মির্জা ফখরুলের পারিবারিক পরিচয়ও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক এবং ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিজীবনে ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করছেন এবং ছোট মেয়ে সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা করেন।

এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক সম্ভবত এখনই। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে । এর আগে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন—রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সেই দায়িত্বও ছাড়তে হবে।

একজন শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলীয় মহাসচিব—জীবনের নানা পরিচয় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল এখন রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী। ২০ আগস্টের ভোট তাই শুধু একটি নির্বাচনের তারিখ নয়; তাঁর কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথচলারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি।