Dhaka ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৯ জন দেখেছেন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে তাঁর মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছে। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ।

রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক থেকে। মনোনয়নপত্রে তাঁর পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

ছাত্র রাজনীতি থেকে যে পথচলা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের ছায়ায় সরাসরি দলীয় পদ দিয়ে নয়; বরং ছাত্রজীবনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি সংগঠনটির এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল তাঁকে।

তবে ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ের পর তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে স্থায়ী হননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা ছাড়াও সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফর এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে
আশির দশকের মাঝামাঝি জীবনের মোড় আবার ঘুরিয়ে দেন ফখরুল। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

এই সময় থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান শুরু। ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

সংসদ ও মন্ত্রিসভায় ফখরুল
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সবচেয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে। দলীয় সংকট, আন্দোলন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক বিরোধের নানা পর্যায়ে তিনি বিএনপির মুখপাত্র ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সামনে থেকেছেন।

রাজনীতির বাইরে পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ
মির্জা ফখরুলের পারিবারিক পরিচয়ও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক এবং ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিজীবনে ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করছেন এবং ছোট মেয়ে সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা করেন।

এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক সম্ভবত এখনই। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে । এর আগে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন—রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সেই দায়িত্বও ছাড়তে হবে।

একজন শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলীয় মহাসচিব—জীবনের নানা পরিচয় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল এখন রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী। ২০ আগস্টের ভোট তাই শুধু একটি নির্বাচনের তারিখ নয়; তাঁর কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথচলারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৩:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে তাঁর মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছে। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ।

রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক থেকে। মনোনয়নপত্রে তাঁর পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

ছাত্র রাজনীতি থেকে যে পথচলা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের ছায়ায় সরাসরি দলীয় পদ দিয়ে নয়; বরং ছাত্রজীবনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি সংগঠনটির এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল তাঁকে।

তবে ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ের পর তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে স্থায়ী হননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা ছাড়াও সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফর এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে
আশির দশকের মাঝামাঝি জীবনের মোড় আবার ঘুরিয়ে দেন ফখরুল। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

এই সময় থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান শুরু। ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

সংসদ ও মন্ত্রিসভায় ফখরুল
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সবচেয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে। দলীয় সংকট, আন্দোলন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক বিরোধের নানা পর্যায়ে তিনি বিএনপির মুখপাত্র ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সামনে থেকেছেন।

রাজনীতির বাইরে পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ
মির্জা ফখরুলের পারিবারিক পরিচয়ও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক এবং ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিজীবনে ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করছেন এবং ছোট মেয়ে সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা করেন।

এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক সম্ভবত এখনই। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে । এর আগে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন—রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সেই দায়িত্বও ছাড়তে হবে।

একজন শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলীয় মহাসচিব—জীবনের নানা পরিচয় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল এখন রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী। ২০ আগস্টের ভোট তাই শুধু একটি নির্বাচনের তারিখ নয়; তাঁর কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথচলারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি।