Dhaka ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দক্ষ শ্রম বাজার তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে লাওস, প্রথম কূটনৈতিক সংলাপ Logo ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার Logo দ্বিপক্ষীয় সফরে শিগগির ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান Logo মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি Logo ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ দিল্লির কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo বিএনপির মহাসচিব পদে কে? রিজভী-সালাহউদ্দিনে নতুন সমীকরণ Logo রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল Logo তারেক রহমানের ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ ভিশনে বিশ্বাসী মার্কিন ব্যবসায়ীরা: অতুল কেশপ Logo ব্যাটারি রিকশা-ইবাইক বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে : জ্বালানিমন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল

দ্বিপক্ষীয় সফরে শিগগির ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ জন দেখেছেন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সম্ভাব্য এ সফরের মূল লক্ষ্য। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগেই সফরটি হতে পারে। এমনকি চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে পারেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার চেয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের সুযোগ থাকায় দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি কার্যকর মনে করা হচ্ছে। এতে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, তিস্তা, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, মানুষের যোগাযোগ সহজ করা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নয়াদিল্লি সফরের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, গত দুই বছরে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরিতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত, চীন, মালয়েশিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এরই মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, দুই দেশের ভিসা কার্যক্রম, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ, কূটনৈতিক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। এর মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার মতো ঘটনাও ঘটে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পর দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু এবং যাত্রীবাহী বাসসেবা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের সময় ভারত বাংলাদেশকে ডিজেলও সরবরাহ করে।

সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

সাক্ষাৎ শেষে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যায় না। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পরে নয়াদিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষ শ্রম বাজার তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে লাওস, প্রথম কূটনৈতিক সংলাপ

দ্বিপক্ষীয় সফরে শিগগির ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ১১:২৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সম্ভাব্য এ সফরের মূল লক্ষ্য। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগেই সফরটি হতে পারে। এমনকি চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে পারেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার চেয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের সুযোগ থাকায় দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি কার্যকর মনে করা হচ্ছে। এতে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, তিস্তা, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, মানুষের যোগাযোগ সহজ করা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নয়াদিল্লি সফরের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, গত দুই বছরে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরিতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত, চীন, মালয়েশিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এরই মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, দুই দেশের ভিসা কার্যক্রম, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ, কূটনৈতিক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। এর মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার মতো ঘটনাও ঘটে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পর দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু এবং যাত্রীবাহী বাসসেবা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের সময় ভারত বাংলাদেশকে ডিজেলও সরবরাহ করে।

সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

সাক্ষাৎ শেষে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যায় না। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পরে নয়াদিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।