Dhaka ০৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি Logo ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ দিল্লির কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo বিএনপির মহাসচিব পদে কে? রিজভী-সালাহউদ্দিনে নতুন সমীকরণ Logo রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল Logo তারেক রহমানের ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ ভিশনে বিশ্বাসী মার্কিন ব্যবসায়ীরা: অতুল কেশপ Logo ব্যাটারি রিকশা-ইবাইক বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে : জ্বালানিমন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল Logo ইসিতে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা Logo সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান যোগাযোগে নতুন সমঝোতা স্মারক সই Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠক

মাঝ আকাশে বিমানের ভয়াবহ ঝাঁকুনি, গাঁজা খেয়েছিলেন পাইলট

থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফ্লাইটটির পাইলটের দুই দফা ডোপ টেস্টেই মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় পরীক্ষায় বিশেষভাবে গাঁজা সেবনের প্রমাণ মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি গত ৪ আগস্ট ১৩৭ যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। মাঝ আকাশে বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২০ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নিচের অংশে আঘাত লাগে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়মিত পোস্ট-ফ্লাইট স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় পাইলটের শরীরে মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করা হলেও ফলাফল পজিটিভ আসে।
সূত্রগুলোর দাবি, দ্বিতীয় পরীক্ষায় গাঁজা সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। গাঁজা সাধারণত ‘উইড’ নামেও পরিচিত।
ঘটনার সময় পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না বলেও সূত্র জানিয়েছে। তখন এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সহকারী পাইলট। এ সময় বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গেলে ককপিটের ভেতর ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এতে ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ পাইলটও কিছুটা ভেসে ওঠেন। বিমানের পেছনের অংশে সিটবেল্ট না বাঁধা কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির দুই পাইলটকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক বিষয়গুলোর তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে বিমান ও এর বিভিন্ন ব্যবস্থা পরীক্ষা, ফ্লাইটের রেকর্ড করা তথ্য, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নথি, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব প্রমাণ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে ভূমিকা রাখা বিষয়গুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ধারণ করাই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।
জনপ্রিয় সংবাদ

মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

মাঝ আকাশে বিমানের ভয়াবহ ঝাঁকুনি, গাঁজা খেয়েছিলেন পাইলট

প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফ্লাইটটির পাইলটের দুই দফা ডোপ টেস্টেই মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় পরীক্ষায় বিশেষভাবে গাঁজা সেবনের প্রমাণ মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি গত ৪ আগস্ট ১৩৭ যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। মাঝ আকাশে বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২০ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নিচের অংশে আঘাত লাগে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়মিত পোস্ট-ফ্লাইট স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় পাইলটের শরীরে মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করা হলেও ফলাফল পজিটিভ আসে।
সূত্রগুলোর দাবি, দ্বিতীয় পরীক্ষায় গাঁজা সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। গাঁজা সাধারণত ‘উইড’ নামেও পরিচিত।
ঘটনার সময় পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না বলেও সূত্র জানিয়েছে। তখন এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সহকারী পাইলট। এ সময় বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গেলে ককপিটের ভেতর ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এতে ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ পাইলটও কিছুটা ভেসে ওঠেন। বিমানের পেছনের অংশে সিটবেল্ট না বাঁধা কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির দুই পাইলটকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক বিষয়গুলোর তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে বিমান ও এর বিভিন্ন ব্যবস্থা পরীক্ষা, ফ্লাইটের রেকর্ড করা তথ্য, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নথি, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব প্রমাণ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে ভূমিকা রাখা বিষয়গুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ধারণ করাই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।