Dhaka ০৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান: এনডিটিভি Logo সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে সৌদি থেকে, দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য Logo দক্ষ শ্রম বাজার তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে লাওস, প্রথম কূটনৈতিক সংলাপ Logo ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার Logo দ্বিপক্ষীয় সফরে শিগগির ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান Logo মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি Logo ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ দিল্লির কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo বিএনপির মহাসচিব পদে কে? রিজভী-সালাহউদ্দিনে নতুন সমীকরণ Logo রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল Logo তারেক রহমানের ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ ভিশনে বিশ্বাসী মার্কিন ব্যবসায়ীরা: অতুল কেশপ

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান: এনডিটিভি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ জন দেখেছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সফরে যেতে পারেন। সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।

সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দিনের এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

সফরের দিনক্ষণ ও বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটিকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

তবে নতুন বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা
দুই দেশের আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন এবং ভারতে অবস্থান নেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল যোগাযোগের বিষয়টি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতের মাটি ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে নয়াদিল্লি ওই আয়োজনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্তও আলোচনায়
সম্ভাব্য বৈঠকে পানি বণ্টন, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির নবায়ন নিয়েও আলোচনার গুরুত্ব বাড়ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং বাণিজ্য ও যোগাযোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নয়াদিল্লির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

সফরটি সব বিরোধের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তবে তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বৈঠক দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমাধানের নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান: এনডিটিভি

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান: এনডিটিভি

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সফরে যেতে পারেন। সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।

সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দিনের এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

সফরের দিনক্ষণ ও বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটিকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

তবে নতুন বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা
দুই দেশের আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন এবং ভারতে অবস্থান নেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল যোগাযোগের বিষয়টি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতের মাটি ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে নয়াদিল্লি ওই আয়োজনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্তও আলোচনায়
সম্ভাব্য বৈঠকে পানি বণ্টন, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির নবায়ন নিয়েও আলোচনার গুরুত্ব বাড়ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং বাণিজ্য ও যোগাযোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নয়াদিল্লির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

সফরটি সব বিরোধের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তবে তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বৈঠক দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমাধানের নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি