Dhaka ০৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান: এনডিটিভি Logo সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে সৌদি থেকে, দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য Logo দক্ষ শ্রম বাজার তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে লাওস, প্রথম কূটনৈতিক সংলাপ Logo ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার Logo দ্বিপক্ষীয় সফরে শিগগির ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান Logo মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি Logo ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ দিল্লির কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo বিএনপির মহাসচিব পদে কে? রিজভী-সালাহউদ্দিনে নতুন সমীকরণ Logo রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল Logo তারেক রহমানের ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ ভিশনে বিশ্বাসী মার্কিন ব্যবসায়ীরা: অতুল কেশপ

সরকারি ক্রয়ের তথ্য প্রকাশে বাংলাদেশকে তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ জন দেখেছেন

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত সব চুক্তির তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে তৈরি এবং দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (সিএজি) আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীনতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রকাশিত ‘২০২৬ সালের রাজস্ব স্বচ্ছতা প্রতিবেদন: বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

এতে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে বছরের চূড়ান্ত হিসাব বিবরণী প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমও শুরু করেছে বর্তমান প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— অন্তর্বর্তী সরকার তাদের প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত, উভয় ধরনের বাজেট তথ্যই এখন অনলাইনে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। যদিও তা পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে না, তবে সার্বিকভাবে বাজেটের তথ্য নির্ভরযোগ্য বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সরকারের ঋণ সংক্রান্ত তথ্যও জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাজেট নথিতে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয়সহ সরকারের সামগ্রিক ব্যয় ও আয়ের একটি যুক্তিসংগত ও মোটামুটি সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। যেমন, সরকারের বিভিন্ন নির্বাহী কার্যালয়ের পরিচালন ব্যয়ের পৃথক কোনো হিসাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, ফলে সামগ্রিক রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে, যার ফলে সরকারি হিসাব যথাযথভাবে পর্যালোচনার সক্ষমতাও সীমিত থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি ক্রয়ের জন্য চালু হওয়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাটিতে তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রবেশাধিকার আরও সহজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

আর্থিক খাতে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে— প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণসংক্রান্ত চুক্তির মৌলিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ, অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে প্রকৃত আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, এবং প্রধান নিরীক্ষা কার্যালয়কে পর্যাপ্ত অর্থ ও কার্যকর স্বায়ত্তশাসন প্রদান। একই সঙ্গে সিএজি যাতে পূর্ণ বাজেট বছর সময়মতো ও স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের রাজস্ব স্বচ্ছতা ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া প্রকৃত ও টেকসই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান: এনডিটিভি

সরকারি ক্রয়ের তথ্য প্রকাশে বাংলাদেশকে তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশের সময় : ১১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত সব চুক্তির তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে তৈরি এবং দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (সিএজি) আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীনতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রকাশিত ‘২০২৬ সালের রাজস্ব স্বচ্ছতা প্রতিবেদন: বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

এতে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে বছরের চূড়ান্ত হিসাব বিবরণী প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমও শুরু করেছে বর্তমান প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— অন্তর্বর্তী সরকার তাদের প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত, উভয় ধরনের বাজেট তথ্যই এখন অনলাইনে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। যদিও তা পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে না, তবে সার্বিকভাবে বাজেটের তথ্য নির্ভরযোগ্য বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সরকারের ঋণ সংক্রান্ত তথ্যও জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাজেট নথিতে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয়সহ সরকারের সামগ্রিক ব্যয় ও আয়ের একটি যুক্তিসংগত ও মোটামুটি সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। যেমন, সরকারের বিভিন্ন নির্বাহী কার্যালয়ের পরিচালন ব্যয়ের পৃথক কোনো হিসাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, ফলে সামগ্রিক রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে, যার ফলে সরকারি হিসাব যথাযথভাবে পর্যালোচনার সক্ষমতাও সীমিত থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি ক্রয়ের জন্য চালু হওয়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাটিতে তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রবেশাধিকার আরও সহজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

আর্থিক খাতে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে— প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণসংক্রান্ত চুক্তির মৌলিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ, অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে প্রকৃত আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, এবং প্রধান নিরীক্ষা কার্যালয়কে পর্যাপ্ত অর্থ ও কার্যকর স্বায়ত্তশাসন প্রদান। একই সঙ্গে সিএজি যাতে পূর্ণ বাজেট বছর সময়মতো ও স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের রাজস্ব স্বচ্ছতা ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া প্রকৃত ও টেকসই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।