Dhaka ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা Logo হজ কোটা আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি হাবের Logo আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশি ১৭ এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনার সুযোগ Logo বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান Logo কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল থেকে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু Logo অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা Logo যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা Logo কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশি অপসারণ, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন Logo নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাস Logo জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সাড়ে ৬ লাখ শূন্য পদ, আবেদন করতে পারবেন যারা

দক্ষ শ্রম বাজার তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে লাওস, প্রথম কূটনৈতিক সংলাপ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯০ জন দেখেছেন

ভিয়েনতিয়েনে বাংলাদেশ ও লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের (লাওস) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক সংলাপ (ফরেন অফিস কনসাল্টেশন্স) অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর বাংলাদেশ ও লাওসের ৩৮ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওস প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুপার্ব ভংনরকেও।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT), স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন, কনস্যুলার সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ও লাওস দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (Memorandum of Understanding) এবং বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে শ্রম সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়।

এছাড়াও, নবীন কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা, দুই দেশের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশের (Least Developed Country/LDC) তালিকা থেকে কার্যকর ও টেকসই রূপান্তর (Smooth Transition Strategy) বিষয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশ ও লাওস সম্মত হয়। কনস্যুলার বিষয়ে সাধারণ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করার অনুরোধ জানালে লাওস পক্ষ তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়।

এ সংলাপে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। উভয় পক্ষ উল্লেখ করে যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় এখনও অনেক কম। এ প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।

পাশাপাশি রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং পারস্পরিক সফর বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। লাওস বিশেষভাবে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি লাওসের সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে লাওসের অব্যাহত সমর্থন কামনা করা হয়।

লাওস বাংলাদেশ আসিয়ানের Sectoral Dialogue Partner হওয়ার বিষয়ে এবং Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP)-এ যোগদানের বিষয়ে দেশটির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও লাওস জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। জলবায়ু অভিযোজন (adaptation) ও প্রশমন (mitigation) কৌশল বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের প্রধানরা একটি আউটকাম ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেন। বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ও প্রতিনিধিদলের সম্মানে লাওসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এক নৈশভোজের আয়োজন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

দক্ষ শ্রম বাজার তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে লাওস, প্রথম কূটনৈতিক সংলাপ

প্রকাশের সময় : ১০:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ভিয়েনতিয়েনে বাংলাদেশ ও লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের (লাওস) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক সংলাপ (ফরেন অফিস কনসাল্টেশন্স) অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর বাংলাদেশ ও লাওসের ৩৮ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওস প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুপার্ব ভংনরকেও।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT), স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন, কনস্যুলার সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ও লাওস দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (Memorandum of Understanding) এবং বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে শ্রম সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়।

এছাড়াও, নবীন কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা, দুই দেশের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশের (Least Developed Country/LDC) তালিকা থেকে কার্যকর ও টেকসই রূপান্তর (Smooth Transition Strategy) বিষয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশ ও লাওস সম্মত হয়। কনস্যুলার বিষয়ে সাধারণ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করার অনুরোধ জানালে লাওস পক্ষ তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়।

এ সংলাপে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। উভয় পক্ষ উল্লেখ করে যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় এখনও অনেক কম। এ প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।

পাশাপাশি রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং পারস্পরিক সফর বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। লাওস বিশেষভাবে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি লাওসের সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে লাওসের অব্যাহত সমর্থন কামনা করা হয়।

লাওস বাংলাদেশ আসিয়ানের Sectoral Dialogue Partner হওয়ার বিষয়ে এবং Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP)-এ যোগদানের বিষয়ে দেশটির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও লাওস জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। জলবায়ু অভিযোজন (adaptation) ও প্রশমন (mitigation) কৌশল বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের প্রধানরা একটি আউটকাম ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেন। বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ও প্রতিনিধিদলের সম্মানে লাওসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এক নৈশভোজের আয়োজন করেন।