Dhaka ০২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা Logo হজ কোটা আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি হাবের Logo আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশি ১৭ এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনার সুযোগ Logo বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান Logo কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল থেকে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু Logo অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা Logo যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা Logo কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশি অপসারণ, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন Logo নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাস Logo জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সাড়ে ৬ লাখ শূন্য পদ, আবেদন করতে পারবেন যারা

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান বিরোধ দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘ইউএস পলিসি ইন সাপোর্ট অব আ স্টেবল, প্রসপারাস অ্যান্ড সভরেন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতি নিয়ে কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা প্রথমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। পরে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সময়েও ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

গত জুনেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দলটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

শেখ হাসিনা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতকে আলোচনার পরামর্শ
একই ব্রিফিংয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনার বিষয়ে কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে। ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, ঢাকা ও নয়াদিল্লি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে। ডয়চে ভেলের ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে আগস্টে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার অন্যদিকে তাকে ভারত থেকে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

‘বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে বলছে না যুক্তরাষ্ট্র’

ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে জটিল উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করতে চায়।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো একটি শক্তিকে বেছে নিতে বলছে না; বরং দেশগুলোর সামনে নিজেদের একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান বিরোধ দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘ইউএস পলিসি ইন সাপোর্ট অব আ স্টেবল, প্রসপারাস অ্যান্ড সভরেন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতি নিয়ে কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা প্রথমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। পরে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সময়েও ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

গত জুনেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দলটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

শেখ হাসিনা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতকে আলোচনার পরামর্শ
একই ব্রিফিংয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনার বিষয়ে কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে। ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, ঢাকা ও নয়াদিল্লি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে। ডয়চে ভেলের ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে আগস্টে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার অন্যদিকে তাকে ভারত থেকে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

‘বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে বলছে না যুক্তরাষ্ট্র’

ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে জটিল উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করতে চায়।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো একটি শক্তিকে বেছে নিতে বলছে না; বরং দেশগুলোর সামনে নিজেদের একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে