ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কংগ্রেসকে জানিয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শরণার্থীদের বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ, বিশেষ করে আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের মানুষ হতে পারেন।
এই সংখ্যা গত বছরের নির্ধারিত ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ১৭ হাজার ৫০০ সংখ্যাটি সর্বোচ্চ সীমা, অর্থাৎ এর বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা হবে না। বাস্তবে এর পুরো সংখ্যাটি ভর্তি হবে কি না, তা আলাদা বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি অর্থবছরে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শের পর শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন।
প্রস্তাবিত নীতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আফ্রিকানাররা মূলত ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকানদের একটি সম্প্রদায়। ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর গণহত্যা চলছে এমন দাবিকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকানার শরণার্থী গ্রহণের পেছনে প্রশাসনের দেওয়া কারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ফলে নতুন শরণার্থী নীতিটি মানবিক সুরক্ষা, অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে যখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি স্থগিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। পরে সীমিত পরিসরে কিছু শরণার্থী গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচিতে কোনো ব্যক্তি শরণার্থী হিসেবে গ্রহণের আগে একাধিক ধাপে যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যান। বিদেশে থাকা এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য, যারা নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বা নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশে ফিরতে পারেন না। শরণার্থী ও অ্যাসাইলামপ্রার্থীর মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। শরণার্থী সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করেন, আর অ্যাসাইলামপ্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সুরক্ষা চান।
২০২৬ অর্থবছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত শরণার্থীদের সংখ্যা অন্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। শরণার্থী প্রসেসিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরের দেশভিত্তিক ভর্তি ও পুনর্বাসনের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট প্রতি অর্থবছরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। এরপর প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সংখ্যা কার্যকর হয়। তাই কংগ্রেসে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কার্যকর হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বড় অংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাই এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















