অসাধু চক্রের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে আবারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশের সদস্যরা। ঢাকা-কুয়ালালামপুরের যৌথ উদ্যোগে যখন দীর্ঘদিন পর ফের জনশক্তি রফতানির প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে, তখন ভুল তথ্য, ভুয়া চাহিদাপত্র ও অপতৎপরতার মাধ্যমে বাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মালয়েশিয়ায় নির্বাচিত এজেন্সির মাধ্যমে দ্রুত কর্মী পাঠানোর পক্ষে থাকা বায়রার সদস্যরা।
স্বচ্ছতার মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর দাবি জানিয়ে শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বিশ্বাস বলেন, প্রথমে ২৫টি লাইসেন্স অনুমোদন হলেও পরে আলোচনার মাধ্যমে সব যোগ্য লাইসেন্সকে এফডব্লিউসিএমএসের আওতায় আনা হয়েছে। এটি কোনো সিন্ডিকেশন নয়; সক্ষম ও আগ্রহী সব লাইসেন্স মালিকের জন্য বাজার উন্মুক্ত।’
২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে মালয়েশিয়া। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতোমধ্যে ২৫টি মূল ও ৩১২টি সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সদস্যরা দাবি করেন, এবার শর্ত পূরণ করা এজেন্সিগুলোকেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এফডব্লিউসিএমএসের তালিকাভুক্ত হতে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে অর্থ লেনদেন করা হয়নি। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণের ভিত্তিতেই এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে।
তারা বলেন, ২০১৭-১৮ মেয়াদে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এবং ২০২২ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বোয়েসেলসহ ১০১টি মূল ও ২৫০টি সহযোগী এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়। ওই সময়ে প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে যান।
অসাধু চক্র বাজার ক্ষতিগ্রস্ত করছে জানিয়ে বায়রার সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, ‘বাজারবিরোধীরা ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। যে দেশ শ্রমিক নেবে, তাদের নিজস্ব নিয়ম-কানুন রয়েছে; সেই নিয়মে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’
বক্তাদের অভিযোগ, আগের প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে না পারা কিছু এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী বিভিন্ন কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন ও ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে শ্রমবাজারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে ২৫টি মূল ও ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়া। এসব এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক 






















