Dhaka ০২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা Logo হজ কোটা আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি হাবের Logo আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশি ১৭ এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনার সুযোগ Logo বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান Logo কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল থেকে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু Logo অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা Logo যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা Logo কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশি অপসারণ, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন Logo নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাস Logo জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সাড়ে ৬ লাখ শূন্য পদ, আবেদন করতে পারবেন যারা

ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে যেতে পারবেন ৮ দেশের নাগরিকরা

জার্মানিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য চালু থাকা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘শান্সেনকার্টে’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে যাওয়ার আগে আলাদা করে এই ভিসা না নিয়েও দেশটিতে প্রবেশ করে সেখানে বসেই অপরচুনিটি কার্ডের জন্য বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন।

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মোট আট দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যোগ্য ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়।

ভিসা ছাড়াই যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। জার্মানিতে পৌঁছে বাসস্থানে ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। এরপর দেশটিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ তালিকায় থাকা আট দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তাঁদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুবিধার আওতায় পড়ছেন না।

অপরচুনিটি কার্ড কী
জার্মানির দক্ষ কর্মী আকর্ষণের নীতির অংশ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। সাধারণত কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়।

এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

আবেদনকারীকেও জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা দেখাতে হতে পারে।

জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে এবং চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কাজের পরীক্ষামূলক সুযোগ নিতে পারেন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া আট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাস বিশেষভাবে জানিয়েছে, বার্লিনে আগে থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা না থাকলে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ডকে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে। সূত্র: জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিট, অফিসিয়াল পেজ

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে যেতে পারবেন ৮ দেশের নাগরিকরা

প্রকাশের সময় : ১২:৫৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য চালু থাকা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘শান্সেনকার্টে’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে যাওয়ার আগে আলাদা করে এই ভিসা না নিয়েও দেশটিতে প্রবেশ করে সেখানে বসেই অপরচুনিটি কার্ডের জন্য বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন।

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মোট আট দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যোগ্য ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়।

ভিসা ছাড়াই যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। জার্মানিতে পৌঁছে বাসস্থানে ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। এরপর দেশটিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ তালিকায় থাকা আট দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তাঁদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুবিধার আওতায় পড়ছেন না।

অপরচুনিটি কার্ড কী
জার্মানির দক্ষ কর্মী আকর্ষণের নীতির অংশ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। সাধারণত কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়।

এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

আবেদনকারীকেও জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা দেখাতে হতে পারে।

জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে এবং চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কাজের পরীক্ষামূলক সুযোগ নিতে পারেন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া আট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাস বিশেষভাবে জানিয়েছে, বার্লিনে আগে থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা না থাকলে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ডকে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে। সূত্র: জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিট, অফিসিয়াল পেজ