দেশের এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণে ইউএস-বাংলাসহ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, এয়ারলাইন্সগুলোর বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা দূর করা হবে। এ ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বর্ণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরাই সরকারের মূল অংশীজন। বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা তৈরিতে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোন নিয়মের কারণে ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে এবং কীভাবে তা সহজ করা যায়— এসব বিষয়ে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে।
দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রেও এয়ারলাইন্সগুলোকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের উড়োজাহাজে জটিল সমস্যা হলে তা মেরামতের জন্য ভারত অথবা সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়। দেশে এমআরও সুবিধা চালুর মাধ্যমে এই নির্ভরতা কমাতে কাজ করা হবে। বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো নিরসনে সরকার পদক্ষেপ নেবে।
দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সম্প্রসারণের প্রশংসা করে মন্ত্রী ইউএস-বাংলার ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা বর্তমানে লিজিংয়ের মাধ্যমে উড়োজাহাজ আনছে এবং ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ কেনারও উদ্যোগ নিতে পারে। এ ধরনের বিনিয়োগ এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইউএস-বাংলার পাশাপাশি আরও কয়েকটি এয়ারলাইন্স রয়েছে। এসব এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে জাতীয় ক্যারিয়ার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকেও আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত এয়ারক্রাফট এলে বর্তমান বিমানবন্দরের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা সক্ষমতা ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি হবে। ভবিষ্যতে এই সক্ষমতারও সীমা অতিক্রম করলে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এতে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক।
সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন।
এ আয়োজনে এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও দেশী-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অন্যান্য অংশীজনরাও অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

অনলাইন ডেস্ক 






















