ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও ও বিভিন্ন বক্তব্য সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক মতবিরোধ ও ব্যক্তিগত-গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব থেকে এক বাংলাদেশি আরেক বাংলাদেশির ক্ষতি করতে এসব তথ্য পাঠান।
জানা গেছে, এ ধরনের ইমেইল ও চিঠির কারণে বিভিন্ন দেশে কয়েকজন বাংলাদেশিকে ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পোল্যান্ডে বসবাসরত কিশোরগঞ্জের এক ব্যক্তি বলেন, সম্প্রতি ইউরোপের রাজনীতি, নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও ধর্মীয় বক্তব্য নিয়ে করা বাংলাদেশির ভিডিও ক্লিপ পোল্যান্ডের ভিসা অফিস ও পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। এসব অভিযোগের কারণে কেউ কেউ সাময়িক সমস্যায়ও পড়েছিলেন। পরে অবশ্য সমস্যার সমাধান হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে।
কিন্তু একজন বাংলাদেশি আরেকজনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর পড়ে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সবাই ইউরোপে আসেন, তাই আমাদের অন্যের প্রতি সহনশীল হওয়া উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা
এ পরিস্থিতিতে ১৪ আগস্ট পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে পোল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়। বিভ্রান্তিকর, অসত্য, উসকানিমূলক বা আপত্তিকর বক্তব্য ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে পোল্যান্ডের আইন ও বিধিবিধানের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড না করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দূতাবাস বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর কয়েক দিন পর ১৭ আগস্ট রোমানিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসও সতর্কতা জারি করে। রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
জার্মানি-ডেনমার্কেও অভিযোগ
শুধু পোল্যান্ড বা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতেই এমন ঘটনা ঘটছে এমন না। জার্মানি, ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে থাকা অনেক বাংলাদেশির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার প্রবণতা দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, কারও ক্ষতি করার উদ্দেশে ভিসা বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে বেনামি ই-মেইলও পাঠানো হয়। এসব অভিযোগের কারণে ডেনমার্কের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে প্রবাসীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন।
এ ছাড়া ভাষাশিক্ষা নিয়ে বিরোধের জেরে জার্মানিতেও মামলা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশে মামলা করা হলেও এর প্রভাব পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রবাসী সংগঠকেরা।
জার্মান প্রবাসী সংগঠক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশিরা নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময়ে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সামাজিকভাবে তার সমাধান করা যেতে পারে। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা স্ক্রিনশট দিয়ে অভিযোগ করলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন সব বাংলাদেশিই।
ডেনমার্কের একজন দূতাবাস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখনই সতর্ক হওয়া উচিত নিজেদের স্বার্থে।

অনলাইন ডেস্ক 






















