হড়পা বানের চরম আবহের মধ্যেই নেপালে একটি বিশাল ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা কৃত্রিম বাঁধ হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ইতোমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং আগামী দিনগুলোতে এতে পানিপ্রবাহ আরও বাড়লে হ্রদটি ফেটে প্রবল বেগে পানি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
চীন ক্যাবল টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও গ্লোবাল টাইমসের বরাত দিয়ে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত এই বাঁধ হ্রদে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে এতে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে, ফলে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
নেপালের ছোছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংগমস্থলের কাছে এই হ্রদটি গঠিত হয়েছে। তিব্বত থেকে উৎপত্তি হওয়া ছোছেন ও পুরেপু নদী একত্রিত হয়ে নেপালে প্রবেশ করেছে, যা সেখানে ভোটেকোশী নদী নামে পরিচিত। ভোটেকোশী মূলত ত্রিশূলী নদীর প্রধান উচ্চতর উপনদী। সম্ভাব্য বাঁধ ভাঙার পরিণতি মূল্যায়ন ও জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য চীনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুওয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে হঠাৎ এক শক্তিশালী বন্যা আঘাত হানে। প্রবল এই জলস্রোত তিমুরে ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে সড়ক, সেতু, ভবনসহ নানা অবকাঠামো ধ্বংস করে ত্রিশূলী নদীর দিকে ধাবিত হয়। নেপাল-চীন সীমান্তজুড়ে বয়ে যাওয়া এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, অবকাঠামো ধ্বংস হয় এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ হন।
এই চরম জটিল উদ্ধার অভিযানের মুখে নতুন সৃষ্টি হওয়া বাঁধ হ্রদটি বিপদের আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ পানির প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা নদী অববাহিকার জনপদ ও অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















