Dhaka ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, ভোটগ্রহণ হবে প্রকাশ্যে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০২:১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯৬ জন দেখেছেন

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দেশের ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ।

১৯৯১ সালের সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী। আব্দুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট। আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপির ছিল ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি এবং সিপিবির ৫টি আসন। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, এনডিপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে সদস্য ছিলেন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি।

সেসময় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬০ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বয়কট করে। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। বিভিন্ন দলের আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।

স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দেন। আর গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে উপস্থিত হননি।

এছাড়া ন্যাপের আব্দুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাহজাহান সিরাজ এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন।

এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী দিয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপিও তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটি এখনও তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

৩৫ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। তবে সাধারণ নির্বাচনের মতো দেশের সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। জনগণের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।

৩৫০ আসনের সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিএনপির ২৪৭টি আসন, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি এবং এনসিপির ৮টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছে ৩টি আসন। এছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৮ জন।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে কত ভোট পাবেন এবং কে জিতবেন, তা নির্ধারণে সংসদের দলীয় আসনসংখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

তবে যেহেতু সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, সেহেতু বিএনপির দলীয় প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন এটি প্রায় নিশ্চিত। তিনিই হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, ভোটগ্রহণ হবে প্রকাশ্যে

প্রকাশের সময় : ০২:১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দেশের ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ।

১৯৯১ সালের সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী। আব্দুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট। আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপির ছিল ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি এবং সিপিবির ৫টি আসন। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, এনডিপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে সদস্য ছিলেন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি।

সেসময় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬০ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বয়কট করে। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। বিভিন্ন দলের আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।

স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দেন। আর গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে উপস্থিত হননি।

এছাড়া ন্যাপের আব্দুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাহজাহান সিরাজ এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন।

এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী দিয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপিও তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটি এখনও তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

৩৫ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। তবে সাধারণ নির্বাচনের মতো দেশের সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। জনগণের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।

৩৫০ আসনের সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিএনপির ২৪৭টি আসন, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি এবং এনসিপির ৮টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছে ৩টি আসন। এছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৮ জন।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে কত ভোট পাবেন এবং কে জিতবেন, তা নির্ধারণে সংসদের দলীয় আসনসংখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

তবে যেহেতু সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, সেহেতু বিএনপির দলীয় প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন এটি প্রায় নিশ্চিত। তিনিই হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।