Dhaka ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

মহাসড়কে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২০ জন দেখেছেন

দেশের ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর থাকবে সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্স। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত মিলবে চিকিৎসা ও উদ্ধার সহায়তা। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় আগামী মাস থেকে মিলবে এমন সেবা।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বরাবরই উদ্বেগের কারণ। ২০২৩-২৪ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আর এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮ শতাংশই ঘটে মহাসড়কে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পাইলট প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। ২ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর আধুনিক সরঞ্জামসহ একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। জিপিএস সুবিধাসম্পন্ন এসব অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেবা দেবে।

সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহামদ সাব্বীর হাসান খান বলেন, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ, এরপর জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে যমুনা ব্রিজ হয়ে রাজশাহী এবং হাতিকামরুল থেকে রংপুর এই তিনটি রুট মিলিয়ে মোট ৫০০ কিলোমিটার করিডোর। এই করিডোরে আমরা পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্সের ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ মডেল চালু করতে যাচ্ছি। প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এতে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন প্রশিক্ষিত চালক থাকবেন। ফায়ার সার্ভিসের মতো এসব অ্যাম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবে।

এরই মধ্যে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে এসব অ্যাম্বুলেন্স নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা। সার্বিক কার্যক্রমে কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা স্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এর সুফল পাওয়া যাবে।

মোহামদ সাব্বীর হাসান খান আরও বলেন, করিডোরসংলগ্ন দোকান ও ফার্মেসিগুলোর মধ্য থেকে কিছু স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের ‘স্ট্যান্ডার্ড কেয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কারণ দুর্ঘটনা ঘটলে তারাই সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও দেয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে কীভাবে নিরাপদে ধরতে বা সরাতে হয়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কারণ, না জেনে বা ভুলভাবে টানাটানি করলে আহত ব্যক্তির আরও ক্ষতি হতে পারে। আমাদের সার্ভিস প্রোভাইডার এ প্রশিক্ষণ দেবে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইনশাআল্লাহ আমরা এই সিস্টেমটি কার্যকর করতে পারব।

২০২৮ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এসব অ্যাম্বুলেন্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

মহাসড়কে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা

প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর থাকবে সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্স। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত মিলবে চিকিৎসা ও উদ্ধার সহায়তা। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় আগামী মাস থেকে মিলবে এমন সেবা।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বরাবরই উদ্বেগের কারণ। ২০২৩-২৪ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আর এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮ শতাংশই ঘটে মহাসড়কে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পাইলট প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। ২ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর আধুনিক সরঞ্জামসহ একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। জিপিএস সুবিধাসম্পন্ন এসব অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেবা দেবে।

সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহামদ সাব্বীর হাসান খান বলেন, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ, এরপর জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে যমুনা ব্রিজ হয়ে রাজশাহী এবং হাতিকামরুল থেকে রংপুর এই তিনটি রুট মিলিয়ে মোট ৫০০ কিলোমিটার করিডোর। এই করিডোরে আমরা পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্সের ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ মডেল চালু করতে যাচ্ছি। প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এতে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন প্রশিক্ষিত চালক থাকবেন। ফায়ার সার্ভিসের মতো এসব অ্যাম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবে।

এরই মধ্যে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে এসব অ্যাম্বুলেন্স নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা। সার্বিক কার্যক্রমে কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা স্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এর সুফল পাওয়া যাবে।

মোহামদ সাব্বীর হাসান খান আরও বলেন, করিডোরসংলগ্ন দোকান ও ফার্মেসিগুলোর মধ্য থেকে কিছু স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের ‘স্ট্যান্ডার্ড কেয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কারণ দুর্ঘটনা ঘটলে তারাই সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও দেয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে কীভাবে নিরাপদে ধরতে বা সরাতে হয়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কারণ, না জেনে বা ভুলভাবে টানাটানি করলে আহত ব্যক্তির আরও ক্ষতি হতে পারে। আমাদের সার্ভিস প্রোভাইডার এ প্রশিক্ষণ দেবে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইনশাআল্লাহ আমরা এই সিস্টেমটি কার্যকর করতে পারব।

২০২৮ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এসব অ্যাম্বুলেন্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।