Dhaka ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি শনাক্ত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০৫ জন দেখেছেন
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় মার্কারি (পারদ) শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ না করার পাশাপাশি ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় পাকিস্তানের এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০ দশমিক ৩৯ পিপিএম, কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪ দশমিক ৭২ পিপিএম এবং লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিম ও নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে যথাক্রমে ৫৯ দশমিক ৮২ ও ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২ দশমিক ৭৬ পিপিএম, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩ দশমিক ৩৭ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬ দশমিক ৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কো. লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।
বিএসটিআই বলছে, বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী এসব পণ্যে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ পিপিএম। অথচ পরীক্ষায় পাওয়া মাত্রা নির্ধারিত সীমার তুলনায় বহু গুণ বেশি।
সংস্থাটি জানায়, সম্প্রতি দেশীয় বাজারে বিভিন্ন ধরনের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে, যার অনেকগুলো বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এসব পণ্যের মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের বাজারকে নিরাপদ রাখতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট এবং সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করেছে।
একই সঙ্গে অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই। প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে তথ্য পেলে বিএসটিআইকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিএসটিআই আরও জানায়, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি শনাক্ত

প্রকাশের সময় : ০৪:১৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় মার্কারি (পারদ) শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ না করার পাশাপাশি ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় পাকিস্তানের এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০ দশমিক ৩৯ পিপিএম, কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪ দশমিক ৭২ পিপিএম এবং লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিম ও নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে যথাক্রমে ৫৯ দশমিক ৮২ ও ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২ দশমিক ৭৬ পিপিএম, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩ দশমিক ৩৭ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬ দশমিক ৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কো. লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।
বিএসটিআই বলছে, বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী এসব পণ্যে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ পিপিএম। অথচ পরীক্ষায় পাওয়া মাত্রা নির্ধারিত সীমার তুলনায় বহু গুণ বেশি।
সংস্থাটি জানায়, সম্প্রতি দেশীয় বাজারে বিভিন্ন ধরনের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে, যার অনেকগুলো বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এসব পণ্যের মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের বাজারকে নিরাপদ রাখতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট এবং সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করেছে।
একই সঙ্গে অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই। প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে তথ্য পেলে বিএসটিআইকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিএসটিআই আরও জানায়, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।