Dhaka ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০১ জন দেখেছেন

ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন চালের একটি চালান দেশটিতে ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। চালের মান খারাপ উল্লেখ করে এই চালানটি ফের ভারতে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি চুক্তির আওতায় আনা এ চালের একটি অংশ খালাসের পর পরীক্ষায় তা মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী বলে জানানো হয়। যদিও চালের রং ‘সামান্য লালচে’ বলে দাবি করেছে শিপিং এজেন্ট।

আর এ ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চালের মান নিয়ে আপত্তি তুলে বাংলাদেশ চালানটি প্রত্যাখ্যান করার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের ব্যবসায়ী মহলের অনেকে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক দৈনিক পত্রিকা দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন বলছে, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ভারত থেকে পাঠানো চালের চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন ২২ জুলাই চালান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে সেটিকে ‘মানুষের খাদ্য হিসেবে উপযোগী’ বলে প্রত্যয়ন দেয়া হয়।

এরপর জাহাজ থেকে চাল খালাসের অনুমতি দেয়া হয়। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালানের একটি অংশ খালাস করা হয়। খালাস করা সেই চালের একটি অংশ তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এ ছাড়া কিছু চাল জয়দেবপুর স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়।

তবে ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা জানান, চালের মান খারাপ এবং তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়।

অন্যদিকে, জাহাজের শিপিং এজেন্ট চালের মান খারাপ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, চালের রং ‘সামান্য লালচে’ ছিল।

এদিকে হঠাৎ করে কেন বাংলাদেশ ভারতীয় চালের মান নিয়ে আপত্তি তুলছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের ব্যবসায়ী মহলের একাংশ। একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে চাল কিনেছিল। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলা খেলছে।’

আরেক ব্যবসায়ীর দাবি, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ কিছুদিন চলবে। তিনি বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এ ধরনের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।’

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় ভারতীয় ওই ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজ থেকে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেয়া হয়নি। প্রথম ব্যবসায়ীর দাবি, ‘পুরো চালানই এখন ভারতে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে’। তবে তার মতে, এ চালান প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় ধরনের কোনও প্রভাব পড়বে না।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে চাল আমদানির এ চুক্তি সই হয়েছিল। একজন ভারতীয় রপ্তানিকারক একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করেছিলেন।

আরেক ব্যবসায়ীর দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের সময় খাদ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া প্রভাব থাকা কয়েকটি সংস্থার কারণেই এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন একজোট হয়ে সেই একচেটিয়া প্রভাব ভাঙতে চাইছে। আর সেই দ্বন্দ্বের পরোক্ষ শিকার হয়েছে ভারতীয় চাল।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন অ-বাসমতি চাল রপ্তানি করেছে, যার বেশিরভাগই ছিল সিদ্ধ চাল। এর মূল্য ছিল ৫৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৯ হাজার টন, যার মূল্য ছিল ৩৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ৮১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৪:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন চালের একটি চালান দেশটিতে ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। চালের মান খারাপ উল্লেখ করে এই চালানটি ফের ভারতে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি চুক্তির আওতায় আনা এ চালের একটি অংশ খালাসের পর পরীক্ষায় তা মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী বলে জানানো হয়। যদিও চালের রং ‘সামান্য লালচে’ বলে দাবি করেছে শিপিং এজেন্ট।

আর এ ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চালের মান নিয়ে আপত্তি তুলে বাংলাদেশ চালানটি প্রত্যাখ্যান করার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের ব্যবসায়ী মহলের অনেকে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক দৈনিক পত্রিকা দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন বলছে, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ভারত থেকে পাঠানো চালের চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন ২২ জুলাই চালান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে সেটিকে ‘মানুষের খাদ্য হিসেবে উপযোগী’ বলে প্রত্যয়ন দেয়া হয়।

এরপর জাহাজ থেকে চাল খালাসের অনুমতি দেয়া হয়। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালানের একটি অংশ খালাস করা হয়। খালাস করা সেই চালের একটি অংশ তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এ ছাড়া কিছু চাল জয়দেবপুর স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়।

তবে ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা জানান, চালের মান খারাপ এবং তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়।

অন্যদিকে, জাহাজের শিপিং এজেন্ট চালের মান খারাপ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, চালের রং ‘সামান্য লালচে’ ছিল।

এদিকে হঠাৎ করে কেন বাংলাদেশ ভারতীয় চালের মান নিয়ে আপত্তি তুলছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের ব্যবসায়ী মহলের একাংশ। একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে চাল কিনেছিল। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলা খেলছে।’

আরেক ব্যবসায়ীর দাবি, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ কিছুদিন চলবে। তিনি বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এ ধরনের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।’

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় ভারতীয় ওই ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজ থেকে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেয়া হয়নি। প্রথম ব্যবসায়ীর দাবি, ‘পুরো চালানই এখন ভারতে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে’। তবে তার মতে, এ চালান প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় ধরনের কোনও প্রভাব পড়বে না।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে চাল আমদানির এ চুক্তি সই হয়েছিল। একজন ভারতীয় রপ্তানিকারক একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করেছিলেন।

আরেক ব্যবসায়ীর দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের সময় খাদ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া প্রভাব থাকা কয়েকটি সংস্থার কারণেই এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন একজোট হয়ে সেই একচেটিয়া প্রভাব ভাঙতে চাইছে। আর সেই দ্বন্দ্বের পরোক্ষ শিকার হয়েছে ভারতীয় চাল।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন অ-বাসমতি চাল রপ্তানি করেছে, যার বেশিরভাগই ছিল সিদ্ধ চাল। এর মূল্য ছিল ৫৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৯ হাজার টন, যার মূল্য ছিল ৩৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ৮১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।