Dhaka ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, শরণার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবার জন্য কংগ্রেস অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ অর্থ বাতিলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর (ওএমবি)।

গত শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আবাসন ও নগর উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন খাতে অনুমোদিত অর্থ বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

‘রিসিশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ বাতিলের জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রস্তাব দিতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অ-মার্কিন নাগরিকদের সহায়তায় ফেডারেল করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অবসান ঘটানোর প্রশাসনের লক্ষ্য এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ‘আমেরিকানদের অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরেই আপত্তি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার অভিযোগ, কংগ্রেস যে অর্থ অনুমোদন করেছে, তা নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না।

রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া বাতিলের যেকোনো চেষ্টা আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলিও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট খাতের বরাদ্দ বাতিলের চেষ্টা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে এমনভাবে বাড়িয়ে দেয়, যেন তিনি একাই ঠিক করতে পারেন কোন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় হবে।

এই উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিছু শরণার্থী ও অভিবাসীর ক্ষেত্রে আটক এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জোরদারের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভিসার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করা বিদেশিদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

ফলে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের এই প্রস্তাব কংগ্রেসে কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের বিষয়টি সামনে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের সময় : ১১:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, শরণার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবার জন্য কংগ্রেস অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ অর্থ বাতিলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর (ওএমবি)।

গত শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আবাসন ও নগর উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন খাতে অনুমোদিত অর্থ বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

‘রিসিশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ বাতিলের জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রস্তাব দিতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অ-মার্কিন নাগরিকদের সহায়তায় ফেডারেল করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অবসান ঘটানোর প্রশাসনের লক্ষ্য এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ‘আমেরিকানদের অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরেই আপত্তি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার অভিযোগ, কংগ্রেস যে অর্থ অনুমোদন করেছে, তা নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না।

রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া বাতিলের যেকোনো চেষ্টা আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলিও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট খাতের বরাদ্দ বাতিলের চেষ্টা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে এমনভাবে বাড়িয়ে দেয়, যেন তিনি একাই ঠিক করতে পারেন কোন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় হবে।

এই উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিছু শরণার্থী ও অভিবাসীর ক্ষেত্রে আটক এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জোরদারের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভিসার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করা বিদেশিদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

ফলে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের এই প্রস্তাব কংগ্রেসে কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের বিষয়টি সামনে থাকবে।