Dhaka ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা

অস্ট্রেলিয়ায় নৌপথে এসে আশ্রয় চাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ জানিয়েছে, রুড-গিলার্ড সরকারের সময় নৌপথে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি বড় অংশকে এখন রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস বা আরএস (RoS) ভিসা দেওয়া হয়েছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়া সবাই সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারী নন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতেও কিছু ভিসা দেওয়া হয়েছে।

রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা একটি স্থায়ী ভিসা। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা (TPV) ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা (SHEV) ধারীরা এই ভিসার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলবানিজ সরকার এই দুই ধরনের অস্থায়ী ভিসাধারীদের স্থায়ী ভিসার পথ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এই গোষ্ঠীর অনেকেই বছরের পর বছর অস্থায়ী ভিসায় দেশটিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ১৯ হাজারের বেশি টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারীকে স্থায়ী রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

নতুন প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেই প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী ভিসা দেওয়া হয়েছে। দ্য অস্ট্রেলিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে এই গোষ্ঠীর স্থায়ী ভিসা পাওয়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থায় রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য, চরিত্র ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের অস্ট্রেলিয়ান ভ্যালুজ স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করতে হয়। এই ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার সুযোগ থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ভিসা মূলত এমন ব্যক্তিদের জন্য, যারা ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ধারণ করতেন বা আবেদন করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে আগের আবেদনই রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার আবেদনে রূপান্তর করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী জোটের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র জনো ডানিয়াম দাবি করেছেন, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়ার এই সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত সুরক্ষা নীতিকে দুর্বল করছে। তিনি পুরোনো টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ব্যবস্থা পুনর্বহালেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকার অপারেশন সার্বভৌম বর্ডার্সের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিয়মিতভাবে নৌপথে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার নীতি পরিবর্তন করা হয়নি।

সরকার আরও জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার সব অনুমোদন সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক মানবিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায়ও কিছু ক্ষেত্রে এই ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের নিজ নিজ দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতিও মূল্যায়নের আওতায় থাকে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই, যারা কোনো পুনর্বিবেচনা বা বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায় নেই এবং অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সব বৈধ সুযোগ শেষ করে ফেলেছেন, তাদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার প্রত্যাশা করা হয়। প্রয়োজনে তাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।

রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ব্যবস্থা চালুর পেছনে আলবানিজ সরকারের যুক্তি ছিল, বহু বছর ধরে অস্থায়ী ভিসায় থাকা সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট অভিবাসন পথ তৈরি করা। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা স্থায়ীভাবে কাজ, ব্যবসা ও পড়াশোনা করতে পারবেন এবং যোগ্য হলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের পথেও যেতে পারবেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যায়, দেশটির ‘লিগ্যাসি ক্যাসলোড’ নামে পরিচিত নৌপথে আসা পুরোনো আশ্রয়প্রার্থী গোষ্ঠীর বিষয়ে সরকার এখনও বিভিন্ন ধরনের ভিসা ও অবস্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ৩০ হাজারের বেশি স্থায়ী ভিসা দেওয়ার তথ্যটি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজ২৪।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা

প্রকাশের সময় : ১১:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় নৌপথে এসে আশ্রয় চাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ জানিয়েছে, রুড-গিলার্ড সরকারের সময় নৌপথে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি বড় অংশকে এখন রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস বা আরএস (RoS) ভিসা দেওয়া হয়েছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়া সবাই সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারী নন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতেও কিছু ভিসা দেওয়া হয়েছে।

রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা একটি স্থায়ী ভিসা। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা (TPV) ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা (SHEV) ধারীরা এই ভিসার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলবানিজ সরকার এই দুই ধরনের অস্থায়ী ভিসাধারীদের স্থায়ী ভিসার পথ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এই গোষ্ঠীর অনেকেই বছরের পর বছর অস্থায়ী ভিসায় দেশটিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ১৯ হাজারের বেশি টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারীকে স্থায়ী রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

নতুন প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেই প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী ভিসা দেওয়া হয়েছে। দ্য অস্ট্রেলিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে এই গোষ্ঠীর স্থায়ী ভিসা পাওয়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থায় রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য, চরিত্র ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের অস্ট্রেলিয়ান ভ্যালুজ স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করতে হয়। এই ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার সুযোগ থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ভিসা মূলত এমন ব্যক্তিদের জন্য, যারা ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ধারণ করতেন বা আবেদন করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে আগের আবেদনই রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার আবেদনে রূপান্তর করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী জোটের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র জনো ডানিয়াম দাবি করেছেন, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়ার এই সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত সুরক্ষা নীতিকে দুর্বল করছে। তিনি পুরোনো টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ব্যবস্থা পুনর্বহালেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকার অপারেশন সার্বভৌম বর্ডার্সের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিয়মিতভাবে নৌপথে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার নীতি পরিবর্তন করা হয়নি।

সরকার আরও জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার সব অনুমোদন সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক মানবিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায়ও কিছু ক্ষেত্রে এই ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের নিজ নিজ দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতিও মূল্যায়নের আওতায় থাকে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই, যারা কোনো পুনর্বিবেচনা বা বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায় নেই এবং অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সব বৈধ সুযোগ শেষ করে ফেলেছেন, তাদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার প্রত্যাশা করা হয়। প্রয়োজনে তাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।

রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ব্যবস্থা চালুর পেছনে আলবানিজ সরকারের যুক্তি ছিল, বহু বছর ধরে অস্থায়ী ভিসায় থাকা সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট অভিবাসন পথ তৈরি করা। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা স্থায়ীভাবে কাজ, ব্যবসা ও পড়াশোনা করতে পারবেন এবং যোগ্য হলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের পথেও যেতে পারবেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যায়, দেশটির ‘লিগ্যাসি ক্যাসলোড’ নামে পরিচিত নৌপথে আসা পুরোনো আশ্রয়প্রার্থী গোষ্ঠীর বিষয়ে সরকার এখনও বিভিন্ন ধরনের ভিসা ও অবস্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ৩০ হাজারের বেশি স্থায়ী ভিসা দেওয়ার তথ্যটি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজ২৪।