Dhaka ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

জাপানে দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

জাপানের সমাজে বিয়ের পর সাধারণত নারীরা স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হলেও দেশটিতে এর সম্পূর্ণ বিপরীত এক অদ্ভুত পারিবারিক ব্যবস্থাও বেশ প্রচলিত। ঐতিহ্যবাহী এই প্রথায় বিয়ের পর মেয়ের স্বামীকেই দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরাধিকারী বানানো হয়।

‘মুকোয়োশি’ বা ‘দত্তক ঘরজামাই’ নামের দীর্ঘদিনের এই সামাজিক ও আইনি রীতির মাধ্যমে জামাইরা শুধু পরিবারের সদস্যই হন না, বরং শ্বশুরবাড়ির পদবি, ব্যবসা, সম্পদ এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা উত্তরাধিকারেরও মূল কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিশুদের দত্তক নেওয়ার ধারণা প্রচলিত থাকলেও জাপানের মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশিই হলো ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। মূলত পারিবারিক আবেগ এবং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা আজও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কোনো পরিবারে পুত্রসন্তান না থাকলে কিংবা নিজের ছেলেকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। সেই ব্যক্তি যদি নিজের মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়।

দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হন এবং জন্মসন্তানের মতোই পরিবারের বয়স্কদের দেখাশোনাসহ সব দায়িত্ব ও অধিকার লাভ করেন। ‘মুকোয়োশি’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পদবি হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং শত বছরের পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবারের ভেতরেই রাখা।

জাপানে এ নিয়ে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, পুত্রসন্তান বেছে নেওয়া যায় না, কিন্তু জামাই বেছে নেওয়া যায়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য সেখানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে।

জাপানের বিশ্বখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাসেও ‘মুকোয়োশি’ প্রথার গভীর প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকি নিজেও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই। এছাড়া নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের দত্তকের সম্পর্ক দেখা গেছে।

তবে আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ায় প্রথাটি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যবস্থায় বিদেশিদেরও সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন।

অর্থাৎ, শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তিও চাইলে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে দত্তক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না, এর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে জাপানের এই ‘মুকোয়োশি’ প্রথা নিছক কোনো দত্তক নেওয়ার গল্প নয়, বরং এটি বদলে যাওয়া সমাজের সঙ্গে ব্যবসা ও উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখার এক বিস্ময়কর কৌশল।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

জাপানে দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানের সমাজে বিয়ের পর সাধারণত নারীরা স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হলেও দেশটিতে এর সম্পূর্ণ বিপরীত এক অদ্ভুত পারিবারিক ব্যবস্থাও বেশ প্রচলিত। ঐতিহ্যবাহী এই প্রথায় বিয়ের পর মেয়ের স্বামীকেই দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরাধিকারী বানানো হয়।

‘মুকোয়োশি’ বা ‘দত্তক ঘরজামাই’ নামের দীর্ঘদিনের এই সামাজিক ও আইনি রীতির মাধ্যমে জামাইরা শুধু পরিবারের সদস্যই হন না, বরং শ্বশুরবাড়ির পদবি, ব্যবসা, সম্পদ এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা উত্তরাধিকারেরও মূল কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিশুদের দত্তক নেওয়ার ধারণা প্রচলিত থাকলেও জাপানের মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশিই হলো ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। মূলত পারিবারিক আবেগ এবং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা আজও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কোনো পরিবারে পুত্রসন্তান না থাকলে কিংবা নিজের ছেলেকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। সেই ব্যক্তি যদি নিজের মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়।

দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হন এবং জন্মসন্তানের মতোই পরিবারের বয়স্কদের দেখাশোনাসহ সব দায়িত্ব ও অধিকার লাভ করেন। ‘মুকোয়োশি’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পদবি হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং শত বছরের পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবারের ভেতরেই রাখা।

জাপানে এ নিয়ে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, পুত্রসন্তান বেছে নেওয়া যায় না, কিন্তু জামাই বেছে নেওয়া যায়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য সেখানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে।

জাপানের বিশ্বখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাসেও ‘মুকোয়োশি’ প্রথার গভীর প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকি নিজেও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই। এছাড়া নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের দত্তকের সম্পর্ক দেখা গেছে।

তবে আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ায় প্রথাটি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যবস্থায় বিদেশিদেরও সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন।

অর্থাৎ, শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তিও চাইলে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে দত্তক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না, এর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে জাপানের এই ‘মুকোয়োশি’ প্রথা নিছক কোনো দত্তক নেওয়ার গল্প নয়, বরং এটি বদলে যাওয়া সমাজের সঙ্গে ব্যবসা ও উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখার এক বিস্ময়কর কৌশল।