Dhaka ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা Logo হজ কোটা আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি হাবের Logo আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশি ১৭ এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনার সুযোগ Logo বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান Logo কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল থেকে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু Logo অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা Logo যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা Logo কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশি অপসারণ, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন Logo নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাস Logo জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সাড়ে ৬ লাখ শূন্য পদ, আবেদন করতে পারবেন যারা

আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ জন দেখেছেন

আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করে রিজেকশন পাওয়া মানেই প্রোফাইল দুর্বল, এমনটা নয়। ভালো সিজিপিএ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, এমনকি প্রকাশনা থাকার পরও একজন আবেদনকারী বাদ পড়তে পারেন। কারণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনে শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বিবেচনা করা হয় না।

অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার সম্ভাবনা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সঙ্গে ফিট এবং ওই বছরের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়। ইউসি বার্কলির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতেও এমন হোলিস্টিক রিভিউয়ের কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রিসার্চ ফিট। একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ভালো হলেও তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কাজের মিল না থাকলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্ভাব্য অ্যাডভাইজার, ল্যাব এবং গবেষণার ক্ষেত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউসি বার্কলির বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের আগ্রহের মিল ব্যাখ্যা করতে বলে।

আরেকটি বড় বিষয় হলো রিসার্চ পটেনশিয়ালের প্রমাণ। সিভিতে শুধু “Research Assistant” লেখা থাকলেই কমিটি বুঝতে পারে না একজন আবেদনকারী আসলে কী কাজ করেছেন। কোন গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁর নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাজ থেকে কী শিখেছেন, এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা না থাকলেও থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন বা অন্য কোনো গবেষণাভিত্তিক কাজ গবেষণার প্রস্তুতি বোঝাতে পারে। এমআইটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন গাইডগুলোতেও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও তার নির্দিষ্ট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা SOP-ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে। শুধু নিজের জীবনের গল্প, স্বপ্ন বা মোটিভেশন তুলে ধরলে সাধারণত যথেষ্ট হয় না। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, কী ধরনের গবেষণা করতে চান, আগের অভিজ্ঞতা কীভাবে সেই আগ্রহ তৈরি করেছে এবং ওই প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ও রিসোর্স আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে মেলে, সেটি পরিষ্কারভাবে দেখাতে হয়। এমআইটি এবং ইউসি বার্কলির নির্দেশনাতেও প্রোগ্রাম ফিট, গবেষণার আগ্রহ এবং পূর্ববর্তী প্রস্তুতির মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রেকমেন্ডেশন লেটার বা LOR-ও শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়। এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত রেকমেন্ডেশন বেশি কার্যকর হতে পারে, যিনি আবেদনকারীর অ্যাকাডেমিক বা গবেষণার কাজ কাছ থেকে দেখেছেন এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেন। গবেষণা করার সক্ষমতা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমআইটির একটি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সরাসরি বলছে, অন্তত একজন এমন ফ্যাকাল্টির লেটার থাকা উপকারী যিনি আবেদনকারীর কাজ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর স্বাধীন গবেষণার সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে পারেন।

ফান্ডিংও এখানে আলাদা একটি বিষয়। ফুল ফান্ডেড অ্যাডমিশনে শুধু অ্যাডমিশন নয়, টিউশন, স্টাইপেন্ড, ফেলোশিপ বা টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো আর্থিক সহায়তার বিষয়ও জড়িত থাকে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেও নির্দিষ্ট বছরে ফান্ডিং কাঠামো বা উপলব্ধ পজিশন সীমিত হতে পারে। তবে সব প্রোগ্রামের ফান্ডিং মডেল এক নয়। কোথাও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের ফান্ডিং প্যাকেজ থাকে, আবার কোথাও ফান্ডিং বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউসি বার্কলির একটি এমএ/পিএইচডি প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের ফান্ডিং প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ফেলোশিপ ও পেইড টিচিং দায়িত্বের সমন্বয় রয়েছে।

ফুল ফান্ডেড মাস্টার্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে নিশ্চিত ফান্ডিং সীমিত হতে পারে, আবার কিছু প্রোগ্রাম তুলনামূলক ভালো ফান্ডিং দেয়। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু “Funding Available” লেখা দেখেই আবেদন না করে কোন ধরনের ফান্ডিং, কত সময়ের জন্য এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়, তা আগে দেখা প্রয়োজন।

আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন লিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবচেয়ে সিলেক্টিভ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখে তালিকা তৈরি করলেও সমস্যা হতে পারে। ফ্যাকাল্টি ফিট, প্রোগ্রামের গবেষণার ক্ষেত্র, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেওয়ার ধরণ, ফান্ডিং কাঠামো এবং নিজের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আবেদন তালিকা তৈরি করা বেশি তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি। কারণ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার এক নয়।

অ্যাপ্লিকেশনের ছোটখাটো ভুলও কখনো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল ডকুমেন্ট, অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা, ভুল ফরম্যাট বা ডেডলাইনের পর কোনো উপকরণ জমা দেওয়া আবেদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার কোনো প্রোগ্রাম অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণই নাও করতে পারে। এমআইটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কাগজপত্র না পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত উপকরণের মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বলে।

সবশেষে, সিজিপিএ বা ইংলিশ টেস্ট স্কোরকে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হোলিস্টিক রিভিউয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, SOP, রেকমেন্ডেশন, লেখার নমুনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করে।

তাই আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে একটি রিজেকশনকে নিজের যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় একজন আবেদনকারীর সক্ষমতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন, ফ্যাকাল্টি ফিট, ওই বছরের আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের মতো বিষয়ও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। একজন আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, উপযুক্ত প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি খুঁজে আবেদন করা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আবেদন ও ফান্ডিং নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে

প্রকাশের সময় : ০২:৪০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করে রিজেকশন পাওয়া মানেই প্রোফাইল দুর্বল, এমনটা নয়। ভালো সিজিপিএ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, এমনকি প্রকাশনা থাকার পরও একজন আবেদনকারী বাদ পড়তে পারেন। কারণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনে শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বিবেচনা করা হয় না।

অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার সম্ভাবনা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সঙ্গে ফিট এবং ওই বছরের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়। ইউসি বার্কলির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতেও এমন হোলিস্টিক রিভিউয়ের কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রিসার্চ ফিট। একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ভালো হলেও তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কাজের মিল না থাকলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্ভাব্য অ্যাডভাইজার, ল্যাব এবং গবেষণার ক্ষেত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউসি বার্কলির বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের আগ্রহের মিল ব্যাখ্যা করতে বলে।

আরেকটি বড় বিষয় হলো রিসার্চ পটেনশিয়ালের প্রমাণ। সিভিতে শুধু “Research Assistant” লেখা থাকলেই কমিটি বুঝতে পারে না একজন আবেদনকারী আসলে কী কাজ করেছেন। কোন গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁর নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাজ থেকে কী শিখেছেন, এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা না থাকলেও থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন বা অন্য কোনো গবেষণাভিত্তিক কাজ গবেষণার প্রস্তুতি বোঝাতে পারে। এমআইটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন গাইডগুলোতেও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও তার নির্দিষ্ট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা SOP-ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে। শুধু নিজের জীবনের গল্প, স্বপ্ন বা মোটিভেশন তুলে ধরলে সাধারণত যথেষ্ট হয় না। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, কী ধরনের গবেষণা করতে চান, আগের অভিজ্ঞতা কীভাবে সেই আগ্রহ তৈরি করেছে এবং ওই প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ও রিসোর্স আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে মেলে, সেটি পরিষ্কারভাবে দেখাতে হয়। এমআইটি এবং ইউসি বার্কলির নির্দেশনাতেও প্রোগ্রাম ফিট, গবেষণার আগ্রহ এবং পূর্ববর্তী প্রস্তুতির মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রেকমেন্ডেশন লেটার বা LOR-ও শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়। এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত রেকমেন্ডেশন বেশি কার্যকর হতে পারে, যিনি আবেদনকারীর অ্যাকাডেমিক বা গবেষণার কাজ কাছ থেকে দেখেছেন এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেন। গবেষণা করার সক্ষমতা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমআইটির একটি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সরাসরি বলছে, অন্তত একজন এমন ফ্যাকাল্টির লেটার থাকা উপকারী যিনি আবেদনকারীর কাজ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর স্বাধীন গবেষণার সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে পারেন।

ফান্ডিংও এখানে আলাদা একটি বিষয়। ফুল ফান্ডেড অ্যাডমিশনে শুধু অ্যাডমিশন নয়, টিউশন, স্টাইপেন্ড, ফেলোশিপ বা টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো আর্থিক সহায়তার বিষয়ও জড়িত থাকে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেও নির্দিষ্ট বছরে ফান্ডিং কাঠামো বা উপলব্ধ পজিশন সীমিত হতে পারে। তবে সব প্রোগ্রামের ফান্ডিং মডেল এক নয়। কোথাও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের ফান্ডিং প্যাকেজ থাকে, আবার কোথাও ফান্ডিং বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউসি বার্কলির একটি এমএ/পিএইচডি প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের ফান্ডিং প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ফেলোশিপ ও পেইড টিচিং দায়িত্বের সমন্বয় রয়েছে।

ফুল ফান্ডেড মাস্টার্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে নিশ্চিত ফান্ডিং সীমিত হতে পারে, আবার কিছু প্রোগ্রাম তুলনামূলক ভালো ফান্ডিং দেয়। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু “Funding Available” লেখা দেখেই আবেদন না করে কোন ধরনের ফান্ডিং, কত সময়ের জন্য এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়, তা আগে দেখা প্রয়োজন।

আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন লিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবচেয়ে সিলেক্টিভ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখে তালিকা তৈরি করলেও সমস্যা হতে পারে। ফ্যাকাল্টি ফিট, প্রোগ্রামের গবেষণার ক্ষেত্র, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেওয়ার ধরণ, ফান্ডিং কাঠামো এবং নিজের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আবেদন তালিকা তৈরি করা বেশি তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি। কারণ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার এক নয়।

অ্যাপ্লিকেশনের ছোটখাটো ভুলও কখনো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল ডকুমেন্ট, অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা, ভুল ফরম্যাট বা ডেডলাইনের পর কোনো উপকরণ জমা দেওয়া আবেদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার কোনো প্রোগ্রাম অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণই নাও করতে পারে। এমআইটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কাগজপত্র না পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত উপকরণের মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বলে।

সবশেষে, সিজিপিএ বা ইংলিশ টেস্ট স্কোরকে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হোলিস্টিক রিভিউয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, SOP, রেকমেন্ডেশন, লেখার নমুনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করে।

তাই আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে একটি রিজেকশনকে নিজের যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় একজন আবেদনকারীর সক্ষমতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন, ফ্যাকাল্টি ফিট, ওই বছরের আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের মতো বিষয়ও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। একজন আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, উপযুক্ত প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি খুঁজে আবেদন করা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আবেদন ও ফান্ডিং নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা।