মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে আগত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে ‘গেস্ট কেয়ার সেন্টার’। হারামাইনবিষয়ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এসব কেন্দ্র থেকে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য, দিক-নির্দেশনা ও বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের সেবা ও নির্দেশনা আরো কার্যকর করতে সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় এসব কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে পবিত্র দুই মসজিদে আগত ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের চলাচল সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গেস্ট কেয়ার সেন্টারগুলোতে হারামাইনে আগত দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় নির্দেশনা, তথ্য ও সচেতনতামূলক সেবা।
দর্শনার্থীরা তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো এবং বিভিন্ন ইবাদত ও ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে এসব কেন্দ্রে সহায়তা নিতে পারেন।
দর্শনার্থীদের ভাষাগত সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ কর্মীদের সেবা রাখা হয়েছে, যাতে আগত ব্যক্তিরা নিজেদের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে পারেন।
বহুভাষিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি মুসল্লিদের জন্য হারামাইনে চলাচল, গন্তব্য খুঁজে পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ আরো সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গেস্ট কেয়ার সেন্টারগুলোতে দর্শনার্থীদের হারানো জিনিসপত্রের বিষয়ে জানানোর বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ কোনো জিনিস হারালে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ করতে পারেন। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা হারানো সামগ্রী খুঁজে পেতে সহায়তা করেন।
এ ছাড়া পথ হারিয়ে ফেলা দর্শনার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। দর্শনার্থীদের সঙ্গে থাকা শিশুদের জন্যও বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে গেস্ট কেয়ার সেন্টারগুলোতে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও সহজ করা হয়েছে। কিউআর কোড ব্যবহার করে দর্শনার্থীরা তাদের নিকটতম সেবাকেন্দ্র শনাক্ত করতে পারবেন এবং সেখানে সহজে পৌঁছাতে পারবেন।
সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় বর্তমানে গেস্ট কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা ২১টি। এর মধ্যে দু’টি কেন্দ্র হারামাইন শরিফাইনের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
এ ছাড়া রয়েছে আরো ১৯টি উপকেন্দ্র। এসব উপকেন্দ্র একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এই সমন্বিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং দুই পবিত্র মসজিদে তাদের চলাচল ও ইবাদতের অভিজ্ঞতা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 






















