পাঁচ বছরে এক কোটি বাংলাদেশির বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির এ লক্ষ্য পূরণে এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে সাত মাস। অথচ বড় শ্রমবাজারগুলোর কয়েকটিতে এখনো অনিশ্চয়তা, কমেছে বিদেশে কর্মী যাওয়ার গতি। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বাজার নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। সরকারের দাবি, সম্ভাব্য নতুন-পুরোনো বাজারগুলো খুলতে পারলে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার সচলের পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। প্রতিবছর লাখ লাখ কর্মী পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট বাজারের ওপরই বেশি নির্ভরতা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংখ্যক কর্মী গেলেও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বাজারে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা।
বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা নেমেছে প্রায় ৯ লাখ ৬৯ হাজারে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অথচ সরকারের লক্ষ্য বড়। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বাংলাদেশির বৈদেশিক কর্মসংস্থান। অর্থাৎ বছরে গড়ে বিদেশে পাঠাতে হবে ২০ লাখ কর্মী।
এদিকে, নতুন বাজার সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে এ লক্ষ্য পূরণের কথা বলছে সরকার।
সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে অভিবাসনের সুযোগ তৈরি হলে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব বলে মনে করছে সরকার। এমনকি সম্ভাব্য বাজারগুলোর চাহিদা বিবেচনায় এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার হিসাবও রয়েছে।
এনিয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বিভিন্ন দূতাবাসে থেকে ডিমান্ড ম্যাপিং করা হয়েছে, সেখানে ১ কোটি ১৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের তথ্য পেয়েছে সরকার।
চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তবে বড় কয়েকটি শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। যার বড় উদাহরণ মালয়েশিয়া।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলছেন, শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, বদলাতে হবে অভিবাসনের ধরনও।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা তৈরি না হলে বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
একইসঙ্গে, বন্ধ ও স্থবির শ্রমবাজারগুলো দ্রুত সচল করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের।

অনলাইন ডেস্ক 






















