Dhaka ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
English
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র Logo এক চুক্তিতে হজের সব সেবা দেবে সৌদি Logo অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল Logo বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য Logo হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল Logo যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন Logo ৬ দিন ধরে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনের পোর্টাল ডাউন Logo অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

ঝুলে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাড়ছে বাংলাদেশের উদ্বেগ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৭ জন দেখেছেন

জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর কেটে গেছে প্রায় ৯ বছর। তারা বলছেন, ক্যাম্পের জীবন অসহ্য হয়ে উঠছে, চান মর্যাদার সঙ্গে নিজদেশে ফিরতে। কিন্তু সেই প্রত্যাবাসন কি আদৌ হবে, নাকি আশ্বাসের পর আশ্বাসেই কেটে যাবে আরও একটি প্রজন্ম? কতদিনই বা সংকটের বোঝা বহন করবে বাংলাদেশ?

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, এটি তাদের জীবনের ভয়াবহ অধ্যায়। দিনটি এলে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর, স্বজন হারানোর বেদনা, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা আর প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আসার ভয়াবহ যাত্রা।

নয় বছর ধরে তারা শুনছে-প্রত্যাবাসন শিগগিরই শুরু হবে। তাদের এ দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই বদলে গেছে রাখাইনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রত্যাবাসনের আলোচনা থাকলেও বাস্তবে ফেরার পথ যেন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। একটি প্রজন্ম শরণার্থী শিবিরেই বেড়ে উঠছে।

রোহিঙ্গারা বলছে, ২৫ আগস্টের কথা মনে পড়লে হত্যা, নির্যাতন, ঘরবাড়িতে আগুন-সবকিছু চোখের সামনে ভাসে। ক্যাম্পের জীবন আমাদের কাছে অসহ্য হয়ে উঠছে। আমরা মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরতে চাই।

মিয়ানমার আমাদের অস্বীকার করছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। ক্যাম্পের জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানান এ রোহিঙ্গা নেতা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মাদক, সন্ত্রাস ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উখিয়ার ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এ সরকার চাইলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে কীভাবে ফেরত নেয়া যায় সে বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির উদ্যোগ নিতে পারে। আমরা সেটা দেখতে চাই।’

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে, যা বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বহীন করার প্রক্রিয়া মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ এবং এই পরিচয় অস্বীকারের রাজনীতিকে মোকাবিলা না করে প্রত্যাবাসনের আলোচনা এগোবে না বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শরণার্থী বিশেষজ্ঞ রাহমান নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘যেখান থেকে এসেছে সেখানে তো পরিস্থিতি এমন হয়নি যে তারা ফেরত গিয়ে নিরাপদে থাকবে। এটা একটা প্রধান কারণ। আরেকটি কারণ হচ্ছে মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হয়েছিল তখন।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ার প্রধান কারণ মিয়ানমারের অশান্ত পরিবেশ। সেখানে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। তিন হাজার কোটি টাকা কিন্তু কম না। এটা জনগণের করের টাকা। সেটা কীভাবে ব্যয় হয়, বাংলাদেশ সরকারের ৭টা সেক্টর আছে সেখানে ব্যয় হয়।’

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

ঝুলে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাড়ছে বাংলাদেশের উদ্বেগ

প্রকাশের সময় : ১১:০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর কেটে গেছে প্রায় ৯ বছর। তারা বলছেন, ক্যাম্পের জীবন অসহ্য হয়ে উঠছে, চান মর্যাদার সঙ্গে নিজদেশে ফিরতে। কিন্তু সেই প্রত্যাবাসন কি আদৌ হবে, নাকি আশ্বাসের পর আশ্বাসেই কেটে যাবে আরও একটি প্রজন্ম? কতদিনই বা সংকটের বোঝা বহন করবে বাংলাদেশ?

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, এটি তাদের জীবনের ভয়াবহ অধ্যায়। দিনটি এলে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর, স্বজন হারানোর বেদনা, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা আর প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আসার ভয়াবহ যাত্রা।

নয় বছর ধরে তারা শুনছে-প্রত্যাবাসন শিগগিরই শুরু হবে। তাদের এ দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই বদলে গেছে রাখাইনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রত্যাবাসনের আলোচনা থাকলেও বাস্তবে ফেরার পথ যেন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। একটি প্রজন্ম শরণার্থী শিবিরেই বেড়ে উঠছে।

রোহিঙ্গারা বলছে, ২৫ আগস্টের কথা মনে পড়লে হত্যা, নির্যাতন, ঘরবাড়িতে আগুন-সবকিছু চোখের সামনে ভাসে। ক্যাম্পের জীবন আমাদের কাছে অসহ্য হয়ে উঠছে। আমরা মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরতে চাই।

মিয়ানমার আমাদের অস্বীকার করছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। ক্যাম্পের জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানান এ রোহিঙ্গা নেতা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মাদক, সন্ত্রাস ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উখিয়ার ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এ সরকার চাইলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে কীভাবে ফেরত নেয়া যায় সে বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির উদ্যোগ নিতে পারে। আমরা সেটা দেখতে চাই।’

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে, যা বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বহীন করার প্রক্রিয়া মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ এবং এই পরিচয় অস্বীকারের রাজনীতিকে মোকাবিলা না করে প্রত্যাবাসনের আলোচনা এগোবে না বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শরণার্থী বিশেষজ্ঞ রাহমান নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘যেখান থেকে এসেছে সেখানে তো পরিস্থিতি এমন হয়নি যে তারা ফেরত গিয়ে নিরাপদে থাকবে। এটা একটা প্রধান কারণ। আরেকটি কারণ হচ্ছে মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হয়েছিল তখন।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ার প্রধান কারণ মিয়ানমারের অশান্ত পরিবেশ। সেখানে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। তিন হাজার কোটি টাকা কিন্তু কম না। এটা জনগণের করের টাকা। সেটা কীভাবে ব্যয় হয়, বাংলাদেশ সরকারের ৭টা সেক্টর আছে সেখানে ব্যয় হয়।’