জনপরিসরে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে বহুল আলোচিত একটি বিল পর্তুগালের পার্লামেন্টে চূড়ান্ত ভোটে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত ভোটে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (PSD), শেগা (Chega), ইনিশিয়াতিভা লিবারাল (IL) এবং সিডিএস-পিপি (CDS-PP) বিলটির পক্ষে ভোট দেয়।
শেগা পার্টির নেতা আন্দ্রে ভেঞ্চুরার নেতৃত্বাধীন দলটি বিলটির প্রস্তাব উত্থাপন করে। এর আগে, এটি পার্লামেন্টের সাংবিধানিক বিষয়ক কমিটিতেও অনুমোদন পায়।
বামপন্থি সংসদ সদস্যদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিলটি পাস হওয়ার পর শেগা দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। প্যান (PAN) দলের আইনপ্রণেতা ইনেস দে সুসা রিয়াল ভোটদানে বিরত ছিলেন।
বিলটি নিয়ে বিশেষায়িত কমিটিতে পিএসডি ও শেগার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সম্ভাব্য সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে পিএসডি প্রস্তাবে পরিবর্তনের দাবি জানায়। পরে চূড়ান্ত খসড়ায় ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।
নতুন খসড়ায় বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে জনপরিসরে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি বয়স, লিঙ্গ, ধর্মীয় পরিচয় বা উৎসের কারণে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও নিষিদ্ধ থাকবে।
প্রাথমিক প্রস্তাবে এ ধরনের কাজকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কারাদণ্ডের বিধান রাখা হলেও পরে তা সংশোধন করে প্রশাসনিক অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিলে অবহেলার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে করলে ৪০০ থেকে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিলটি এখন প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য যাবে। প্রেসিডেন্ট এতে সই করলে এটি আইনে পরিণত হবে। তবে তিনি চাইলে বিলটি ভেটো দিতে বা সাংবিধানিক আদালতের পর্যালোচনার জন্যও পাঠাতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















